N.E.W.S.T.A.R.T

Trust in God|আস্থা

“কিন্তু ঈশ্বর যাহাকে যে পরিমাণে বিশ্বাস বিতরণ করিয়াছেন, তদনুসারে সে সুবোধ হইবারই চেষ্টায় আপনার বিষয়ে বোধ করুক” (রোমীয় ১২:৩)।

বিস্ময়কর স্বাস্থ্য তথ্য: প্ল্যাসিবো হল এমন একটি জিনিস যা দেখতে একটি বৈধ ওষুধের মত কিন্তু এটি আসলে রঙিন ওষুধ অথবা স্টার্স জাতীয় একটি বড়ি ছাড়া আর কিছু নয়, যার মধ্যে ওষুধের গুণাগুণ বলতে কিছুই নেই। প্ল্যাসিবো নামক এই বড়িগুলো রোগীদের একটি প্রত্যাশাকে শক্তিশালী করতে দেওয়া হয় যার ফলে তাদের অবস্থার উন্নতি হবে। নতুন নতুন ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার সময়ও প্ল্যাসিবোগুলো ব্যবহার করা হয়। গবেষণা সুস্পষ্টভাবে দেখিয়েছে যে রোগীরা যখন একটি বস্তু এই সরল বিশ্বাসে করে যে সেটি তাদের সুস্থ করবে, তখন প্রায়শই তাদের লক্ষণগুলোর উন্নতি হয় অথবা সম্পূর্ণভাবে চলে যায়।
প্রকৃতপক্ষে, একটি গবেষণায় চিকিৎসকরা আঁচিলগুলোকে রাসায়নিক গুণবর্জিত উজ্জ্বল রং দ্বারা রং করে সেগুলো কৃতকার্যতার সঙ্গে দূর করতে পেরেছিল, তাদের কাছে এই প্রতিজ্ঞা করা হয়েছিল যে রং যখন মিলিয়ে যাবে তখন আঁচিলগুলোও চলে যাবে। আর হাঁপানি রোগের আরেকটি গবেষণায় গবেষকরা দেখেছেন যে, তারা শ্বাস নালিগুলোর প্রসারণ তৈরি করতে পারে মাত্র লোকদের কেবল এই কথা বলে যে শ্বাসের মাধ্যমে তারা একটি শক্তিশালী ব্রঙ্কোডাইলেটর নিচ্ছে, এমন কি যখন তাদের সেগুলো দেওয়া হয় নি তখনও। কীভাবে একজন ব্যক্তির বিশ্বাস প্রকৃত পক্ষে তার শারীরিক উন্নতি নিয়ে আসে তার হাজার হাজার উদাহরণ রয়েছে।

অন্যতম উপাদান বিশ্বাস

ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য এই বিষয়টি হয়ত আমাদের এটি বুঝতে সাহায্য করতে পারে যে, কেন যীশু, যাদের তিনি সুস্থ করেছিলেন তাদের প্রায়ই বলতেন, “তোমার বিশ্বাস তোমাকে রক্ষা করিল, শান্তিতে চলিয়া যাও, ও তোমার রোগ হইতে মুক্ত থাক” (মার্ক ৫:৩৪)। প্রকৃতপক্ষে, ডাক্তারের প্রতি এবং ওষুধের প্রতি একজন ব্যক্তির বিশ্বাসের প্রভাব যদি আমাদের স্বাস্থ্যের উপরে এতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, তাহলে ঈশ্বরের প্রতি আমাদের বিশ্বাস আমাদের শারীরিক এবং আধ্যাত্মিক সুস্থতার উপরে কতই না অধিক শক্তিশালী হতে পারে?
যীশু বলেছেন, “যে বিশ্বাস করে, তাহার পক্ষে সকলই সাধ্য” (মার্ক ৯:২৩)। “বিশ্বাস উৎপাদক” এই সমস্ত ইন্দ্রীয়গ্রাহ্য বস্তুগুলো সম্পর্কে গবেষণার অসামান্য বিষয় হল রোগী এবং ডাক্তার উভয়ই যখন বিশ্বাস করে যে রোগী সুস্থ হয়ে যাবে, আরোগ্য হওয়ার ঘটনাটি তখন আরও ঘন ঘন ঘটে। একটি সমীক্ষা অনুসারে, “আক্কেল দাঁত উঠিয়ে ফেলার পর ব্যথায় ভুগছেন এমন রোগীদের ক্ষেত্রে আসল আল্ট্রাসাউন্ডে যতটা ব্যথা কমায় একই ভাবে নকল আল্ট্রাসাউণ্ড প্রয়োগ করেও একই পরিমাণে উপশম পেয়েছিলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত রোগী এবং থেরাপিস্ট উভয়ই ভেবেছিলেন যে মেশিনটি চালু আছে।” সম্ভবত এটি এই সত্যটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যে, এক জন ব্যক্তির নিরাময়ের জন্য যখন সম্মিলিতভাবে প্রার্থনা করা হয়, তখন ফলাফলগুলো বাস্তবতা প্রদর্শন করে।

বিস্ময়কর স্বাস্থ্য তথ্য: সিাত বছর বেশি বাঁচতে চান? রিডার্স ডাইজেস্ট, সারা দেশ ব্যাপী ২১,০০০ লোক নিয়ে গবেষণার ব্যাপারে এই তথ্য প্রকাশ করেছিল যে, যারা সপ্তাহে কখনও প্রার্থনা করেন নি এবং ধর্মীয় কোন সেবাকাজে যোগ দেন নি তাদের তুলনায় যারা একাধিকবার প্রার্থনা করেছিলেন এবং ধর্মীয় সেবাকাজে যোগ দিয়ে ছিলেন তাদের আয়ু সাত বছর বেশি ছিল।

সামাজিক প্রভাবক: সুস্থ মানুষের প্রয়োজন মানুষ

“আর সদাপ্রভু ঈশ্বর কহিলেন, মনুষ্যের একাকী থাকা ভাল নয়” (আদিপুস্তক ২:১৮)।
আদি থেকে, ঈশ্বর মানুষকে সামাজিক প্রাণি হওয়ার জন্য সৃষ্টি করেছিলেন। আমরা একটি সুস্থ, বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্কের প্রয়োজনের সঙ্গে আসেই সূক্ষ্ণ বন্ধনে জড়িয়ে আছি।
আপনি কি কখনও নিবিড়ভাবে দশ আজ্ঞা দেখেছেন? সেখানে আপনি দেখবেন প্রথম চারটি আজ্ঞা ঈশ্বরের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের কথা বলে, অপর দিকে শেষ ছয়টি আজ্ঞা আমাদের সহমানবের সঙ্গে আমাদের বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এই কারণে যীশু দশ আজ্ঞাগুলোকে এই দুটি মহান আজ্ঞা দ্বারা সারসংক্ষেপ করে বলেছেন: ঈশ্বরকে ভালোবাসো এবং তোমাদের প্রতিবেশিকে ভালোবাসো
(মথি ২২:৩৭-৪০)।
আশ্চর্যজনকভাবে, আধুনিক গবেষণাগুলো প্রকাশ করে যে মানুষের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হয়ে পড়াকে চিহ্নিত করার মাধ্যমে স্বাস্থ্যের অনেক সমস্যা চিহ্নিত করা যেতে পারে। তবে তার চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ঈশ্বরের প্রতি আস্থাকে তার আরোগ্যদায়ক প্রভাবের জন্য ক্রমান্বয়ে চিকিৎসাশাস্ত্রের দ্বারা স্বীকৃতি পাচ্ছে। সেই কারণে এটি খুবই দুঃখজনক যে এখন আমরা এমন একটি বিশ্বে বসবাস করছি যেখানে বিবাহ বিচ্ছেদ এতটাই সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছে যে এটি যেন একটি গাড়ির টায়ার পরিবর্তন করার মত একটি বিষয়, আর নিঃসঙ্গ মানুষগুলো ইট-সুরকির দেওয়ালে ঘেরা ছোট্ট একটি কক্ষে নিজেদের আলাদা করে রেখেছে। টেলিভিশন এখন একটি নিত্য সঙ্গী হয়ে উঠেছে, অপর দিকে সারগর্ভ ক্ষুদে বার্তা এখন প্রতিবেশীদের বাড়িতে গিয়ে তাদের সঙ্গে দেখা করার অর্থপূর্ণ স্থানটি দখল করেছে।
সমপ্রতি, ধর্ম নিরপেক্ষ অনেক বিজ্ঞানী নেতিবাচক স্বাস্থ্যের প্রভাবে সামাজিক কাঠামোগুলোর যে একটি পতন হতে পারে তা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। জগদ্বিখ্যাত একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, ডিন অর্নিশ হৃদরোগের অন্তর্নিহিত কারণগুলো সম্পর্কে বলতে গিয়ে এই কথা বলেছিলেন:
“আমাদের সংস্কৃতিতে প্রকৃত মহামারি শুধু শারীরিক হৃদরোগ নয়, বরং … আধ্যাত্মিক হৃদরোগ – অর্থাৎ, একাকীত্ব, বিচ্ছিন্নতা এবং বিষণ্নতার গভীর অনুভূতি যা আমাদের সংস্কৃতিতে অবস্থিত সামাজিক কাঠামোর ভাঙ্গনের সঙ্গে প্রচলিত যা আমাদের সংযোগ এবং সমপ্রদায়ের অনুভূতি প্রদান করে (জোরারোপ করা হয়েছে)।

বিস্ময়কর স্বাস্থ্য তথ্য: সমপ্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে যারা কখনও বিবাহ করেনি তাদের অকাল মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। আরও বলা হয়েছে, যাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে অথবা যারা আলাদা থাকেন তাদের তাড়াতাড়ি মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা ২৭ শতাংশ বেশি। অধিকন্তু, বিবাহিত পুরুষদের আত্মহত্যার সম্ভাবনা অবিবাহিত পুরুষদের তুলনায় অর্ধেক এবং বিবাহ বিচ্ছেদ প্রাপ্ত পুরুষদের তুলনায় এক তৃতীয়াংশ। আপনি যেভাবে দেখতে পাচ্ছেন, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা মৃত্যুর হারে একটি ভূমিকা পালন করে।

আরও পড়তে চান? আশ্চর্যজনক স্বাস্থ্য ম্যাগাজিন অর্ডার করতে আমাদের সংস্থান পৃষ্ঠাটি দেখুন!